হজ্ব: বিশ্ব-মানবতার ঐক্যের ভিত্তি
وَلِلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الۡبَيۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَيۡهِ سَبِيۡلاًؕ وَمَنۡ كَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِىٌّ عَنِ الۡعٰلَمِيۡنَ
মানুষের মধ্য থেকে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন এই গৃহের হজ্জ্ব সম্পন্ন করে, এটি তাদের ওপর আল্লাহর অধিকার। আর যে ব্যক্তি এ নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করে তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ বিশ্ববাসীর মুখাপেক্ষী নন।
আল-ইমরান: আয়াত ৯৭ (আংশিক)
হজ্ব (ইসলামের একটি এবাদত) হল প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনে শারীরিক স্বাস্থ্য, ভ্রমণের ক্ষমতা এবং নিরাপদ যাতায়াত সহ আর্থিক সামর্থ্যের শর্তগুলি পূরণ হলে ব্যক্তির জন্য বাধ্যবাধকতা (ফরজ) একটি কাজ।
হজ্ব হল মুসলমানদের বার্ষিক সাধারণ সমাবেশ যা সেই ঘরটি (কাবা) অনুষ্ঠিত হয় যেখান থেকে প্রথমবারের মতো মুসলমানদের কাছে আল্লাহ্র বাণী পাঠানো হয়েছিল এবং যা নবী ইব্রাহিমের (আঃ) বিশুদ্ধ বিশ্বাসের জন্মের সাক্ষী ছিল এবং একমাত্র আল্লাহ্র এবাদতের জন্য পৃথিবীতে স্থাপিত প্রথম ঘর। তাই, হজ্ব একটি মহান তাৎপর্যপূর্ণ সমাবেশ। পবিত্র বিশ্বাস কেন্দ্রিক এই সমাবেশ তাই মানুষ এবং সৃষ্টিকর্তার মধ্যে সুন্দর যোগসূত্র সৃষ্টি করে।
ঈমান (বিশ্বাস) মানে আল্লাহ্র সাথে মানুষের আধ্যাত্মিক যোগাযোগ। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সত্য যে একমাত্র আল্লাহ্র কাছ থেকেই মানুষ তার মানবিক গুনাবলিগুলো অর্জন করেছে। বিশ্ব-মানবতার ঐক্যের ভিত্তি গঠনের জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি।
তাই যে পবিত্র স্থান থেকে প্রথম মানবজাতিকে বিশুদ্ধ বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল সেখানে প্রতিটি বছর হজ্বের মত এক আধ্যাত্মিক সমাবেশ মানবতার জন্য আল্লাহর নির্দেশিত এক গুরত্বপুর্ন দায়িত্ব।
সুত্রঃ “In The Shade of The Quran” – Sayyid Qutb, Vol 2, pp. 152, 153
