ঈমানের বিশটি বৈশিষ্ট্য
আজদ সুওয়াইদ ইবনে আল-হারিস গোত্রের একটি প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য বর্ণনা করেছেন: আমি তাদের একজন ছিলাম যাদেরকে আমাদের গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল। আমরা যখন মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং তার সাথে কথা বললাম, তিনি আমাদেরকে দেখে খুশি হলেন।
তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন আমরা কে? আমরা বললামঃ আমরা মুমিন।
নবী (সাঃ) মুচকি হেসে বললেন: “প্রত্যেক বক্তব্যের একটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। তোমার বক্তব্য এবং তোমার বিশ্বাসের বৈশিষ্ট্য কী?”
আমাদের উত্তর ছিল: “পনেরটি বৈশিষ্ট্য, যার মধ্যে পাঁচটি আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি দ্বারা বিশ্বাস করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, এবং পাঁচটি আমল (কাজ) বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, এবং পাঁচটি ছিল ইসলামের আগে থেকেই আমাদের নৈতিক আচরণ বিধির অংশ, যা আমরা এখনও বজায় রাখেছি যদি না আপনি তাদের যে কোনো একটি বাদ দিতে বলেন।”
নবীজি জিজ্ঞেস করলেনঃ আমার প্রতিনিধিরা তোমাদেরকে যে পাঁচটিতে ঈমান আনতে আদেশ করেছেন তা কি কি?
আমরা বললাম: “তারা আমাদেরকে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাব, তাঁর রসূল এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করার নির্দেশ দিয়েছে।”
নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন: “আমার প্রতিনিধিরা তোমাদেকে যে পাঁচটি আমল (কাজ) বাস্তবায়নের আদেশ করেছেন তা জন্য কি কি?”
আমরা বললাম: “তারা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আমরা যেন ঘোষণা দেই- আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই; নামাজ নিয়মিত আদায় করি; যাকাত দেই; রমজান মাসে রোজা রাখি এবং সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করি। “
নবীজি তখন আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন: “প্রাক-ইসলামী যুগে আপনারা যে পাঁচটি নৈতিক বিধি-বিধান মেনে চলতেন সে গুলো কি কি?”
আমাদের উত্তর ছিল: “প্রাচুর্য সময়ে কৃতজ্ঞ হওয়া ও পরীক্ষার সময়ে ধৈর্যশীল হওয়া; এবং ভাগ্যের পরিবর্তনকে সহজে মেনে নেওয়া; শত্রুর মকাবিলার সময় আমাদের প্রতিশ্রুতি ও সততা বজায় রাখা এবং আমাদের শত্রুর পরাজয়ের সময় আনন্দ প্রকাশ না করা। ”
নবী (সাঃ) মন্তব্য করলেন: “এই লোকেরা জ্ঞানী এবং বিদ্বান। প্রকৃতপক্ষে, তারা এত জ্ঞানী যে তারা নবীদের শিক্ষার কাছাকাছি অবস্থান করছে।”
তারপর নবী (সাঃ) বললেন: “আমি আরও পাঁচটি গুণ যোগ করছি যাতে আপনার মোট ২০টি হয়। আপনারা যা বর্ণনা করেছেন তা যদি সত্যিই, তবে আপনারা যা খেতে পারবেন না তা কখনও মজুদ করবেন না; বসবাসের জন্য ব্যবহার করবেন না এমন ঘর তৈরি করবেন না; আগামীকাল আপনি যা রেখে যাচ্ছেন তার জন্য প্রতিযোগিতা করবেন না; আল্লাহকে ভয় করুন, যার কাছে আপনারা ফিরে যাবেন ও আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে এবং অপেক্ষা করুন সেই পরিস্থিতির (শেষ বিচারের দিনের) যার মুখোমুখি হবেন ও যেখানে চিরকাল থাকবেন তার জন্য ” [ইবনে কাথির, ইবনে কাইয়িম আল-জাওযিয়াহ]
সুত্রঃ “Muhammad: Man and Prophet” – Adil Salahi, pp. 762, 763
