
দুর্নীতির প্রতিকার
وَلَا تَاۡكُلُوۡٓا اَمۡوَالَكُمۡ بَيۡنَكُمۡ بِالۡبَاطِلِ وَتُدۡلُوۡا بِهَآ اِلَى الۡحُکَّامِ لِتَاۡکُلُوۡا فَرِيۡقًا مِّنۡ اَمۡوَالِ النَّاسِ بِالۡاِثۡمِ وَاَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
“আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে খেয়ো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোন উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে।”
আল- বাকারাহ / আয়াত ১৮৮
শাসক যদি হয় দুর্নীতিগ্রস্থ তাহলে এটা অধীনস্থদের জন্য খারাপ একটা সম্পর্ক বয়ে আনে, এবং এটা দুই তরফায়ও হতে পারেঃ অধীনস্থদের আচরনের মধ্যেও দূর্নীতি থাকতে পারে এবং শাসকদের মধ্যেও দুর্নীতি থাকতে পারে। অধীনস্থদের মধ্যেও এক ধরনের দুর্নীতির আচরন রয়েছে আবার শাসকদের মধ্যেও এক ধরনের দুর্নীতিপরায়নতা আচরন রয়েছে।
দুর্নীতির এই আচরন কখনো কখনো একই সাথে গড়ে ওঠে , আবার কখনো কোন এক পক্ষ দুর্নীতি অন্য পক্ষকে দুর্নীতি করতে বাধ্য করে।
উপরের আয়াতটি শাসকদের সম্বোধন করেছে যারা একে অপরকে তাদের অধিকার বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য দুর্নীতি ব্যবহার করতে পারে।
রসূল (সাঃ) নিন্দা করেছেন তিন ব্যক্তিরঃ সেই তিন ব্যক্তি হলো যে ঘুষ দেয়, যে ঘুষ নেয় এবং যে এটার মধ্যস্থাকারি। [বর্ণনা করেছেন ইবনে হাম্বল (রহঃ)]
এই একই নিয়ম জনসাধারণের অধিকার বা সম্পত্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সততা হল একটি সামাজিক সম্পদ যা সমাজের সকল সদস্যদের পালন করা উচিত এবং যে কোন অসৎ উদ্যোগই মহামারী শুরু করতে পারে।
সুতরাং, সামাজিক ন্যায়বিচারের সাথে নৈতিক শিক্ষা এবং আল্লাহভীতি একত্রিত করতে হবে।
যারা কর্তৃত্ব ভোগ করেন, তা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, বিচার বিভাগীয় বা অন্য ধরনের হোক, তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতিকে আমন্ত্রণ জানানো বা উৎসাহিত করার, বা গ্রহণ করার যে কোনো প্রলোভন প্রতিরোধ করতে হবে।
যাইহোক, সামগ্রিকভাবে সমাজে সততা বজায় রাখতে এবং যে কোনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থাকা ব্যাক্তিদের প্রতি নজর রাখা, সতর্ক করা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা সাধারন জনসাধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তা সত্ত্বেও, এটি লক্ষণীয় বিষয় যে কোনও নির্দিষ্ট সময়ে এবং দেশে সকল অবস্থায়ে কিছু গরীব সৎ ব্যাক্তি পাওয়া যাবে, সেই সাথে গরীব ও ধনীদের মধ্য থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাক্তিও পাওয়া যাবে!
