Skip to main content

সবার মধ্যে ভালো গুণ খোঁজ কর!

আমাদের এটা জানা থাকা দরকার যে,যারা আল্লাহ এবং রসূলকে (সাঃ) বিশ্বাস করে
তারা অবশ্যই জন্মগতভাবে কিছু না কিছু ভালো গুন নিয়ে আসছে, তাতে সে যতই খারাপ কাজ করুক
না কেন।

বড় ধরনের সীমালংঘন একজন মানুষের ঈমানকে গোড়া থেকে উপড়ে দেয় না যতক্ষন না পর্যন্ত  ইচ্ছাকৃতভাবে সে আল্লাহকে অস্বীকার করতেই থাকে এবং
তার আদেশকে অমান্য করে যায়। 

রসূল (সাঃ) যে কোন অন্যায়কারীর
সাথে একজন চিকিৎসকের মত আচরন করতেন কিন্ত কখনোই একজন পুলিশ যেমন একজন অপরাধীর সাথে
আচরন করে তেমন আচরন করতেন না। তিনি অন্যায়কারীদের সাথে খুবই দরদ ভরা মন নিয়ে আচরন করতেন
এবং তাদের কথা খুবই মনোযোগ সহকারে শুনতেন।

রসূলের (সাঃ) জীবনদশায়, এমন একজন মদ্যপায়ী ছিলো যাকে সাজা দেওয়ার জন্য রসূল(সাঃ)
এর কাছে নিয়ে প্রায় প্রতিদিন আনা হতো, তবুও লোকটা মদ ছাড়তে পারছিল না। এই অবস্থায়ে
একদিন যখন লোকটাকে রসূল (সাঃ) এর কাছে আনা হোল তখন জনৈক একজন লোক সেই মদ্যপায়ীকে
অভিশাপ দিয়ে বললোঃ “আল্লাহ তাকে ধবংস করুক! আর কতবার তাকে মদ পানের জন্য রসূলুল্লাহর
কাছে আনতে হবে?”

লোকটির কথা শুনে রসূল (সাঃ) লোকটিকে বললেনঃ “তাকে অভিশাপ করো না। আল্লাহর
কসম করে বলছি সে আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূলকে
ভালবাসে।“

এখানে আরো বর্ণনা করা হয়েছে যে রসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “তোমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে
শয়তানকে সাহায্য করো না। “

রসূল (সাঃ) অভিশাপ করতে নিষেধ করেছেন এই জন্য যে, এই অভিশাপের কারনে ঐ মদ্যপায়ী
মুসলমান এবং ঐ লোকটির ভাতৃত্বের মধ্যে ফাটল ধরতে পারে- তার সীমালংঘনের জন্য তার এবং
তার অন্যান্য মুসলমান  ভাইদের সাথে মনমালিন্য
করা ঠিক হবে না।

উপরের উদাহারন যদি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করি এবং এই ঘটনাকে ঘিরে মহানবী (সাঃ)
এর অন্তদৃষ্টির উপর যদি আমরা মনোনিবেশ করি তাহলে দেখতে পাবো যে রসূল (সাঃ) একজন মানুষের
মধ্যের জন্মগত ভালো গুনগুলোর উপর মনোনিবেশ করতেন।
 

আমাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন অধ্যয়ন করা এবং নবী (সঃ)  যে সব অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা
অনুসরণ করা।

যে সমস্ত চরমপন্থীরা
কেউ কুফর বা শিরকের ব্যাপারে ভুল করলেই নির্বিচারে দোষারোপ করে, তাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে তাদের  কৌশল পরিবর্তন করতে হবে এবং জানতে হবে যে যারা দুর্নীতি অথবা অরুচিকর কাজে জড়িয়ে পরে তাদের  একটি বড় অংশ মূলতঃ ইসলামের অজ্ঞতা, খারাপ সঙ্গ বা ভুলের কারনে করে থাকে।

এর সমাধান হল এই সমস্ত সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠতে এবং দমন করতে তাদেরকে সাহায্য করা।

কঠোর হওয়া, অন্যকে কুফরের দোষারোপ করা এবং তারা যা কিছু করে তার দোষ খুঁজে বের করা তাদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা ও দূরে সরিয়ে দেওয়ার কাজ করবে।

একজন জ্ঞানী ব্যক্তি একবার বলেছিলেন:

অন্ধকারকে অভিশাপ দেওয়ার চেয়ে,
অন্ধকার রাস্তার জন্য একটি মোমবাতি জ্বালানোর চেষ্টা করুন।

সুত্রঃ Islam: The Way of Revival,”The Ethics of
Daw’wah and Dialogue
 – Yusuf al Qaradawi, pp. 224, 225

Leave a Reply