পরিবারের জন্য রমাদান নির্দেশিকা
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ-
- আপনার জ্ঞানকে নতুন করে ঝালিয়ে নিন। রমাদান সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত ও হাদীস সংগ্রহ/তেলাওয়াত/মুখস্ত করুন।
- আপনার সংগ্রহে থাকা বই পড়ন ৷
- নতুন বই কিনুন । রমাদান আপনার লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করার সেরা সময়
- সম্মিলিত আলোচনার জন্য পারিবারিক সমাবেশের আয়োজন করুন।
শিশুদের জন্য করনীয়ঃ
- তাদেরকে কুরআন ও হাদীস থেকে রেফারেন্স শেখান।
- বয়স্ক বাচ্চাদেরকে আয়াত/হাদিস মুখস্ত করতে উৎসাহিত করুন।
- ছোট বাচ্চাদের রমাদানের সাথে সম্পর্কিত কিছু ছোট বাক্যাংশ শেখানোর চেষ্টা করুন।
(ছোটদের উপযোগী রমাদানের সম্পর্কিত আয়াত/হাদিস-এর কিছু ছোট বাক্যাংশ ডাউনলোড করুন)
পরিবারে রমাদানের পরিবেশ তৈরি করুনঃ
- বিশেষ দোয়া করুন ।
- সাওম সম্পর্কিত ফিকহী মাসলা সম্পর্কে আপনার জ্ঞান ঝালাই করে নিন ।
- দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা করুন। প্রয়োজনে আপনার কাজ, ঘুম এবং খাবারের সময়সূচী এমনভাবে সাজিয়ে নিন যাতে সাহরি, ইফতার ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য সময় পাওয়া যায় ।
- রমাদানের আগে পারিবারিক বৈঠক ডাকুন । রমাদানের গুরুত্ব, পরিবারের জন্য এর প্রভাব এবং সম্ভব হলে একসঙ্গে ইফতার খাওয়ার পাশাপাশি তারাবিহ নামাজে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করুন।
পুরো পরিবারের জন্য পরামর্শ
- আপনার পরিবারে পরিবর্তন আনতে সিদ্ধান্ত নিন। যেমন: এই রমজানে আমাদের পরিবার পুরো কুরআন পড়া শেষ করবে। রমজানে এতিমকে স্পন্সর করুন।
- আপনার প্রতিবেশীদের সাথে রমাদান সম্পর্কে আলোচনা করার সুযোগ নিন ।
- আপনার প্রতিবেশীকে ইফতারের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করুন। তাদের দাওয়াত দেয়া সম্ভব না হলে তাদের সাথে কিছু ইফতারের খাবার শেয়ার করুন।
- দাওয়াহ এর উদ্দেশ্যে পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য ইফতার পার্টির পরিকল্পনা করুন।
- তারাবী, মসজিদে ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করুন।
- বিশেষ দুআ করুন যাতে আল্লাহ আপনার আসন্ন রমাদানকে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য সেরা রমাদান হিসেবে কবুল করেন।
- আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ দুআ করুন ।
- আপনার বন্ধু, প্রতিবেশী এবং অন্যান্য দেশে/স্থানে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের কিছু ‘রমাদান গ্রিটিং কার্ড পাঠান। ইসলামিক স্টোরগুলিতে রমাদান গ্রিটিং কার্ড পাওয়া যায়। তবে শিশুদের দ্বারা কিছু হাতে তৈরি কার্ড প্রস্তুত করা ভালো ৷
রমাদানের দিনগুলিতে করণীয়:
যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখবে তার চেহারা জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছর দূরে থাকবে। (আবু সাইদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস)
রোজা রেখে যে মিথ্যা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে পারলো না আল্লাহর কাছে তার খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকা গুরুত্বহীন বা নিষ্প্রয়োজন। (আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত বুখারী শরীফের হাদীস)
- আন্তরিক নিয়ত করুন।
- রোজা নষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকুন ।
- রোজার আমলসমূহ আন্তরিকভাবে পালন করুন। যেমন- ফজরের পূর্বে খাবার (সুহুর) খাওয়া, সূর্যাস্তের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোজা ভঙ্গ করা এবং ইফতারের পর দুআ করা ।
- খাবার তৈরি ও গ্রহণের ক্ষেত্রে বিনয়ী হোন ।
- রোযার উপকারিতা নষ্ট করে এমন সব কাজ এড়িয়ে চলুন। যেমন- গীবত করা, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, চোখ ও অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের অপব্যবহার, মেজাজ হারানো ইত্যাদি।
- কুরআন থেকে আয়াত পড়ুন, অধ্যয়ন করুন এবং মুখস্থ করুন।
- অন্যান্য ফরজ ইবাদতের জন্য আরও মনোযোগ দিন। যেমন – ৫ ওয়াক্ত নামাজ, যাকাত প্রদান ইত্যাদি ৷ সকল কাজে আল্লাহকে স্মরণ করার চেষ্টা করুন।
- বেশি বেশি যিকির ও দোয়া করুন।
- সাদাকা দিন ।
- বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। যেমন- তাহাজ্জুদ, তারাবী ইত্যাদি।
- রমাদানের শেষ দশদিন ইবাদতে অধিক পরিশ্রমী হোন। যেমন- ইতেকাফ, লাইলাতুল কদর ইত্যাদি।
- সম্ভব হোলে রমাদান মাসে ওমরাহ পালন করুন ।
- সদাকাতুল ফিতর আদায় ৷
পরিবারের পারস্পরিক সহযোগিতাঃ
- সাহরি ও ইফতারের সময় পরিবারের সকল সদস্যকে একত্র করার চেষ্টা করুন। ইফতারের জন্য অপেক্ষা করার সময় বা সেহরির পরে ফজরের নামাযের জন্য অপেক্ষা করার সময় পরিবারের একজন সদস্যকে কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতে বা দোয়া করতে দিন।
- পড়াশোনা, রান্না, সেহরী, ইফতারের সময় একে অপরকে সাহায্য করুন।
রমাদানকে বিদায় জানানঃ
মুহাম্মাদ (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে রোযা ভঙ্গের একটি বিশেষ সদকা দরিদ্র ও অভাবীকে দেওয়া হবে রোযার সময় অনর্থক কথা বলার সম্ভাবনা থেকে নিজের নফসকে শুদ্ধ করার উপায় হিসাবে এবং অভাবীদের সাহায্য করার উপায় হিসাবে। (আবু দাউদ: ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত)
- রমাদান মাসে রোজা পালনে কোনো ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
- সারাজীবন সওমের শিক্ষা ও স্পিরিট ধরে রাখার শপথ নিন ৷
- ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে ঈদুল ফিতর পালন করুন। পরম করুণাময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছ থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ আশা করুন ।
লেখকঃ মাসুদ আলী
