Skip to main content

হিজরি বর্ষের বৈশিষ্ট্য

মুহাম্মাদ (সা:) মক্কার কাফেরদের ষড়যন্ত্রের কারণে মক্কা ছেড়ে মদিনা চলে যান। যা হিজরত নামে পরিচিত। এই হিজরতের সময় থেকে হিজরি সাল গণনা শুরু করেন।

যদিও প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় পৌঁছেন রবিউল আওয়াল মাসে। কিন্তু হিজরতের পরিকল্পনা হয়েছিল নবুওয়তের ১৩ তম বর্ষের হজের মৌসুমে। সময়টি ছিল মদিনার আনসারি সাহাবাদের সঙ্গে আকাবার দ্বিতীয় শপথ সংঘটিত হওয়ার পর। তখন ছিল জিলহজ মাসে। আর তার পরের মাসই হলো মহররম।

হিজরি সন যদিও  দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর নির্দেশে তাঁরই যুগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচলিত হয়ে আসছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর গণনা শুরু হয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর হিজরতের সময় এবং হিজরতের পরিকল্কনাকে ও নির্দেশনাকে কেন্দ্র করেই।

হিজরি সন শুরু হল হিজরতের বছর গণনা করে -১৬ জুলাই, ৬২২ = ১ মহররম, ১ হিজরি

আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে হিজরি সন চালু হয়।মুসলিমবিশ্বে চন্দ্র পরিক্রমার সাথে সম্পর্কিত হিজরি সন অতি পবিত্র,মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ সন।প্রায় দেড়শত কোটি মুসলিমের কাছে এই হিজরি সনের গুরুত্ব অপরিসীম।মুসলিম উম্মাহর ঐতিহাসিক সাল গণনায় হিজরি সন এক মহান ঘটনার স্মারক।

ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান হিজরি সন তথা আরবি তারিখ ও চন্দ্রমাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসবসহ সব ক্ষেত্রেই মুসলিম উম্মাহ হিজরি সনের উপর নির্ভরশীল।তারিখ শব্দটি আরবি যার প্রচলিত অর্থ ইতিহাস, বছরের নির্দিষ্ট দিনের হিসাব।

আল্লামা ইবনে মানজুর (রহ.) তাঁর বিখ্যাত আরবি অভিধান ‘লিসানুল আরবে’ লিখেছেন,-তারিখ হলো সময়কে নির্দিষ্ট করা, সময়ের চিত্র তুলে ধরা, সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে শব্দবদ্ধ করা।আবার কেউ কেউ বলেছেন তারিখ শব্দটি অনারবি।‘মা’ ও ‘রোজ’ থেকে পরিবর্তন করে একে আরবিতে রুপান্তর করা হয়েছে যার অর্থ-দিন, মাস ও বছরের হিসাব।

হিজরি সন গণনা কোনো ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু তারিখ থেকে  শুরু হয়নি-বরং ইহা বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিজরতের সঙ্গেই সম্পর্কিত।হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মারক বানিয়ে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) হিজরি নববর্ষের গোড়াপত্তন করেন। তিনিই সর্বপ্রথম মুসলমানদের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র চান্দ্রমাসের পঞ্জিকা প্রণয়ন করেন।

হিজরি সন ইসলাম পুনর্জাগরণের প্রধান ও অবিসংবাদিত প্রতীক এবং মুসলমানদের বিজয় ও সাফল্যের এক জ্বলন্ত ইতিহাস। উজ্জ্বল অমর কীর্তি ও চিরন্তন ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যবাহী হিজরি সনের অনুসরণ করে গোটা ইসলামী জাহান মুসলিম উম্মাহর সঠিক ও শাশ্বত অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে মনজিলে মাকসুদের প্রতি এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।

যেহেতু আল্লাহ সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে মাসে একবারে নতুন চাঁদ দেখা যায়; এভাবে বছরটি বারো মাস হয়ে থাকে।

Leave a Reply