মহরম মাসঃ হিজরি নববর্ষের শুরু
মুসলমানদের জন্য মহরম মাস হল নতুন বছরের শুরু। প্রতি বছর, বিশ্বজুড়ে মাসটি বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে। কখনও কখনও আমরা গ্রীষ্মের অসহ্য গরমে দিশাহারা আর কখনবা শীতের কারনে কাতর। কিন্তু একটি জিনিষ যা একই থাকে তা হল এই মাসের পবিত্রতা।
এই মাসের তাৎপর্য একটি ঘটনাবহুল যাত্রা দিয়ে শুরু হয়। সুন্দর, শান্তি ও আল্লাহ্র রহমতের প্রতীক আমাদের নবী (সঃ) মক্কা থেকে মদীনায় করেছিলেন এই মাসে আর সাই দিন থেকে শুরু হয়েছিল ইসলামের বিকাশের একটি নতুন অধ্যায়। নবীর (সঃ) জন্মস্থানের বাইরে একটি নতুন শহরে ইসলামের রঙ ছড়িয়েছিলেন এবং অবশেষে সে আলো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। আমরা সবাই সে কাহিনী জানি, তবুও আমরা এর গুরুত্বে ভুলে যাই।
আমাদের আরেকজন প্রিয় নবী হযরত মুসা (আঃ) এর কারণেও এই মাসটির গুরুত্ব রয়েছে। ইবনে আব্বাসের (রাঃ) মতে, নবী যখন মদীনায় হিজরত করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে ইহুদি জনগোষ্ঠী মহররমের দশম দিনে রোজা রাখত। তারা বলেছিল যে সেই দিনটি ছিল যেদিন মুসা (আঃ) এবং তার অনুসারীরা অলৌকিকভাবে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন এর পানিতে ডুবে গিয়েছিল।
ইহুদীদের কাছ থেকে এ কথা শুনে নবী (সঃ) বললেন, “আমরা তোমাদের চেয়ে মুসার (আঃ) সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ এবং মুসলমানদেরকে আশুরার দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন” (আবু দাউদ)।
এই ঘটনাটি ঘটেছিল আশুরার দিনে, মহররমের দশম দিন, মাসের সবচেয়ে পবিত্র দিন। রাসুল (সাঃ) এ দিন সম্পর্কে বলেছেন, “আমি আশা করি যে, আশুরার দিন রোজা রাখা আল্লাহ তা পূর্ববর্তী বছরের কাফফারা হিসেবে কবুল করবেন” (মুসলিম)।
ইহুদিদের থেকে মুসলমানদের আচার-অনুষ্ঠানকে আলাদা করার জন্য, নবী (সঃ) যারা দশম তারিখে রোজা রাখতে চান তাদের নবম ও দশম বা মাসের দশম ও একাদশ রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে যারা শুধুমাত্র দশমীর রোজা রাখতে চান তারাও করতে পারেন। কারণ এটি নফল (ঐচ্ছিক) রোজাগুলির মধ্যে একটি, আশুরার রোজা ফরজ নয়।
আল্লাহ মহরম মাসকে সুন্দরভাবে হজ্জের মাস যুল-হিজ্জার সাথে জুড়িয়ে দিয়েছেন। বছরের শেষ হয় যুল-হিজ্জে কোটি কোটি মুসলিমের “লাব্বাইক” ধ্বনির মাধ্যমে আল্লাহ্ কাছে আত্মসমর্পণ করে, আর একইভাবে নতুন বছরের শুরু আল্লাহ্র দুই প্রিয় নবীর দাওয়াতি প্রেরণার স্মৃতিমাখা মাস মহরম দিয়ে।
আসুন কিছু কাজ “ইসলামী নববর্ষের পরিকল্পনায়” লিখে রাখি, নতুন বছরে সঠিক পথে চলার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলি। আল্লাহ্ আমাদের সহায় হোন। আমীন!
এই বিশ্বের অন্যান্য সবকিছু পরিবর্তনের সাথে, সময়ের আবর্তে আমরা আজকাল পরিবর্তিত হই। তবে কেন এই মাসের অপরিমেয় কল্যাণের সুযোগে নিজেদের জীবনে কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে পারবনা।
আল্লাহর ইচ্ছায়, এটাই হোক আমাদের চলার পথের আসল সূচনা, আমীন!
সুত্রঃ Ammarah Usmani (https://www.soundvision.com/article/muharram-the-real-beginning) / ভাবানুবাদঃ মাসুদ আলী
