পশু কোরবানী
হজ্ব এবং ঈদ-উল-আযহার সময় নির্দিষ্ট ধরণের পশু কোরবানী করা ইসলামী আহকামের (রীতি) অংশ। ইসলামই একমাত্র ধর্ম নয় যা পশু কোরবানীর নির্দেশ দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে পশু অধিকার আন্দোলনের প্রভাবে পশু কোরবানী আক্রমণের মুখে পড়েছে।
নীচে মুসলিম আমেরিকান মিশেল জ্যানসেনের (Michel Jansen) হজ্বের সময় পশু কোরবানীর প্রতি অস্বস্তিবোধ এবং কীভাবে তিনি পরবর্তীতে নিজেকে এরসাথে খাপ খাওয়াতে পেরেছিলেন তার উল্লেখ করা হলঃ
“আমি হজ্বযাত্রা শুরু করার আগে, এর আহকামগুলো আমার কাছে কৌতূহলী বিষয় বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু আমি যখন হজ্বযাত্রায় অংশ নিলাম, তখন এই আচার-অনুষ্ঠানের অর্থ ও তাৎপর্য পরিস্কার হল, ইসলাম সম্পর্কে আমার উপলব্ধি আরও গভীর হল এবং মুসলিম বলতে কী বোঝায় তা আরও সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করলাম। প্রকৃতপক্ষে, এই কারণেই আল্লাহ্ মুহাম্মদকে (সঃ) তীর্থযাত্রার জন্য আহ্বান জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন: ” যাতে এখানে তাদের (হজ্বযাত্রীরা) জন্য যে কল্যাণ রাখা হয়েছে তা তারা দেখতে পায়….” -আল হাজ্জ/২৮ (আংশিক)
উদাহরণস্বরূপ, হজ্বের শেষের দিকে যখন [প্রাণী] কোরবানীর সময় এলো তখন আমি অস্বস্তি বোধ করতে লাগলাম। যেহেতু আমি শৈশবে যে কোমল-হৃদয়কে চিনতাম তা আমি পুরোপুরি ছাডতে পারিনি , তাই এর মুখোমুখি হওয়ার অনেক আগে থেকেই আমি করবানীর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলাম এবং এখন এটি করার সময় এসেছে। আমার কি করার ছিল? একটি মেয়ে হিসাবে আমি হারিয়ে যাওয়া কুকুর বা বিপথগামী বিড়ালদের দেখাশোনা করেছি, পাখির বাসা থেকে পড়ে যাওয়া বাচ্চাকে দত্তক নিয়েছি, পাখির ভাঙা পা ম্যাচের লাঠি দিয়ে ঠিক করেছি এবং আহত প্রজাপতিকে চিনির শরবত খাইয়েছি। কিন্তু আমার একজন সঙ্গী অনড় ছিলেন। তিনি বললেন, “আপনাকে অবশ্যই স্যাক্রিফাইস করতে হবে।”
মিনায় আমাদের বিল্ডিংয়ে ফিরে আমি কুরআনের দিকে তাকালাম। আমি দেখলাম যে কোরবানীর অনেক তাৎপর্য রয়েছে: এটি ইব্রাহীমের (আঃ) পুত্রকে আল্লাহ্র রাস্তায় আন্তরিকভাবে নিবেদিত করা, এবং আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে ইব্রাহীমের (আঃ) আত্মসমর্পণের বিনিময়ে পুত্রের পরিবর্তে ‘পশু কোরবানী’ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়; এটি আরবদের মধ্যে মূর্তিপূজার সমাপ্তি চিহ্নিত করে; এটি সৃষ্টি জগতের প্রভু, পরম করুণাময় আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতার একটি নিদর্শন; এবং এটি সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ্র দেওয়া রহমতকে অন্যের সাথে ভাগ করে নিতে শেখায়ঃ “নিজেরাও খাও এবং তাদেরকেও খাওয়াও যারা পরিতুষ্ট হয়ে বসে আছে এবং তাদেরকেও যারা নিজেদের অভাব পেশ করে…….” -আল হাজ্জ/৩৬ (আংশিক)
আমি কুরআন পড়ছিলাম আর তা নিয়ে চিন্তা করছিলাম, আমার বিবেক থেকে একটা বিরাট বোঝা সরে গেলো। আমি হঠাৎ দেখলাম যে, কোরবানী জীবনের পবিত্রতাকে সমুন্নত রাখে, এটি প্রকৃতপক্ষে হজ্ব পালনকারীর একটি অঙ্গীকার যে সে শুধুমাত্র খাদ্য হিসেবে পশু কোরবানী করতে পারবে।
আগে যেখানে আমি কোরবানী বিষয়ে অস্বস্তিবোধ করতাম, এখন আমি আমার হজ্বের সকল প্রয়োজনীয় আহকামগুলো পূরণ করতে আগ্রহী হয়েছি।
Compiled From:
“ISLAM- The Natural Way”, by Adbul Wahid Hamid, pP. 127-128
