এক মাতার আত্মত্যাগ!
“হে আমাদের রব! আমি একটি তৃণ পানিহীন উপত্যকায় নিজের বংশধরদের একটি অংশকে তোমার পবিত্র গৃহের কাছে এনে বসবাস করিয়েছি। পরওয়ারদিগার! এটা আমি এ জন্য করেছি যে, এরা এখানে নামায কায়েম করবে। কাজেই তুমি লোকদের মনকে এদের প্রতি আকৃষ্ট করো এবং ফলাদি দিয়ে এদের আহারের ব্যবস্থা করো, হয়তো এরা শোকরগুজার হবে।”
-সূরা ইবরাহীম / আয়াত ৩৭
হজ্ব বা ওমরা পালনকারী মুসলমানদের অবশ্যই সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী দূরত্বের মধ্যবর্তী অংশে সাতবার দৌড়াতে হয়। সাফা ও মারওয়া কাবার নিকটবর্তী দুটি পাহাড়। এটি ছেলের জন্য একজন মায়ের আত্মত্যাগের স্মারক।
সেই মা ছিলেন হাজেরা (রা:)। তার পুত্র ছিলেন হযরত ইসমাইল (আঃ)। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ছিলেন হাজেরার (রা:) স্বামী এবং ইসমাইলের (রা:) পিতা।
হাজেরার ত্যাগের উদাহরণ ঘটেছিল যখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) হাজেরাকে (রা:) এবং তার শিশুকে মক্কার উপত্যকায় রেখে গিয়েছিলেন একটি সভ্যতা শুরু করার পথপ্রদর্শক হিসাবে আল্লাহর আদেশে।
এখানে একজন নবীর স্ত্রী, মিশরের রাজার রাজকুমারী, তার সন্তানকে নিয়ে মরুভূমিতে চলে গেলেন। সবই আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার জন্য।
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর পক্ষ থেকে তার পরবর্তী দায়িত্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে তিনি এমন একটি এলাকায় পৌঁছেছিলেন যেখানে হাজেরা (রা:) এবং ইসমাইল (রা:) তাকে দেখতে পাননি। এ সময় তিনি দুই হাত তুলে উপরোক্ত দুআ করতে করতে ফিরে গেলেন।
এই মায়ের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফল আজ আমরা পাচ্ছি। আজ আমরা জমজম কুপের পবিত্র পানি পান করছি। আর আমরা হজ্ব ও ওমরার সময় সাফা ও মারওয়ার মধ্যে হাজেরার (রা:) চেয়ে অনেক বেশি আরামদায় অবস্থায় হাঁটছি, দৌড়াচ্ছি।
ছেলের প্রতি তার দায়িত্ববোধ, জরুরী অবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি এবং এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস সবই প্রমান করে হাজেরা (রা:) কতটা চমৎকার মা ছিলেন এবং সেই সাথে আল্লাহর প্রতি তিনি কতটা দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন।
সুত্রঃ “Running to Remember a Mother and Her Trust in Allah” – SoundVision.com / “The Holy Quran: Guidance for Life” – Yahiya Emerick, p. 184
