Skip to main content

বিষন্নতার প্রতিকার

বিষন্নতা বা দুঃখ প্রকৃতপক্ষে দুই ধরনের হয়ে থাকে।

প্রথমটি সহজেই  বুঝা যায়,
যেমন আপনজনের মৃত্যু অথবা সম্পদ হারিয়ে ফেলানো অথবা এমন কিছু হারিয়ে ফেলা যা
একজনের কাছে ছিলো মহামূল্যবান।

দ্বীতিয়টির তেমন কোন কারন নাই। এটি একটি আকস্মিক যন্ত্রণা এবং বিষাদ যা ব্যক্তির উপর নেমে আসে, তাকে বেশিরভাগ সময় কাজের আনন্দ এবং অন্যান্য স্বাভাবিক আনন্দ উপভোগ থেকে বিরত রাখে। ব্যাক্তিটি সাধারনতো এই হতাশার কোন পরিষ্কার কারন জানেনা। এই প্রকারের দুঃখ বা বিষণ্ণতার পিছনে কারণগুলি সাধারণত শারীরিক লক্ষণগুলির সাথে সম্পর্কিত যেমন রক্ত শূন্যতা, রক্তের শীতলতা এবং রক্তের উপাদনের পরিমানের পরিবর্তন। লক্ষন অনুযায়ী এই রোগের চিকিৎসা
হচ্ছে শারীরিক এবং মানসিক।

শারীরিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে, রক্তকে বিশুদ্ধ করার ব্যাপারে মনোযোগ
দিতে হবে, রক্তের তাপমাত্রা বাড়াতে হবে
এবং রক্তের পরিশোধন করা।

মানসিক বিষয়ে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে হালকা কথাবার্তায় উৎসাহিত করা যা
তার মনকে হালকা করবে এবং ভাল কাজে প্রেরনা যোগাবে, সেই সাথে তাকে গান শোনা বা ঐ
ধরনের কোন কাজে উৎসাহিত করতে হবে যেন সে আবেগ তাড়িত হয়ে তার বিষন্নতার হালকা কমিয়ে
আনতে পারে।

যদি বিষন্নতার কারন হয়ে থাকে কাছের কারো মৃত্যু বা এমন কিছু জিনিস যা
সে পাওয়ার জন্য আপ্রান চেষ্টা করছে কিন্তু পাচ্ছে না তাহলে এটি শরীরের উপর
মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, ক্রমাগত শোকের কারনে কোন শারীরিক ক্ষতিও হয়ে যেতে
পারে। যুক্তিসংগত চিন্তাভাবনা দিয়ে প্রশ্ন করে আক্রান্ত ব্যাক্তিটিকে বোঝাতে হবে
যে তার শারীরিক সুস্থতা হচ্ছে তার কাছে সব থেকে গুরত্বপূর্ন বিষয়। কিছু টাকা পয়সা
বা কোন বিশেষ প্রিয় মানুষের জন্য এটি ক্ষুইয়ে ফেলা যাবে না।

ব্যাপারটি হচ্ছে বিষন্ন বা দুঃখিত মানুষটি তার শরীর এবং মনকে বেশি
আনন্দ দিতে চেয়েছিলেন সেই ‘হারানো মানুষ অথবা জিনিষ’ দিয়ে আর এখন তিনি সেটা ফিরে
পেয়ে মন ও দেহের যন্ত্রণা বন্ধ করতে চান।

যা হারিয়েছে তা নিয়ে যন্ত্রণায় তার স্বাস্থ্য নষ্ট করা, সামান্য লাভের জন্য পুঁজি বিক্রি করার মতো।

 

আরেকটি বিষয় আমাদের বুঝতে হবে এবং অনুধাবন করতে হবে যে, এই দুনিয়ার
জীবনটা প্রকৃতগতভাবেই শুধুমাত্র হাসি আনন্দের জায়গা নয় আর না কোন প্রিয়জনকে আজীবন
ধরে রাখার জায়গা অথবা নিজের ইচ্ছামত নিজের চাওয়াকে পাওয়ার জায়গা।

চারপাশে তাকিয়ে দেখো, এমনকি কাওকে দেখতে পাচ্ছো যে এ ধরনের শোক বা দুঃখ
থেকে পরিত্রান পেয়েছে? কাওকেই পাবা না।

যদি এভাবে করে এই বিষয়টিকে ভাবতে পারো তাহলে বুঝবে যে এই দুনিয়াতে
আমরা যা কিছু হাসি আনন্দ ভোগ করছি সেটা একটা বাড়তি উপহার যেটা আমাদের আনন্দের সাথেই
গ্রহন করা উচিৎ। আর এই জীবনে চলার পথে যত দুঃখ কষ্ট বিষন্নতা আমাদের ঘিরে ধরে সেটা
নিয়ে অত বেশি শোক করা উচিৎ হবে না।

আরো একটি বিষয় অনুধাবন আমাদের থাকা উচিৎ যে, আমি যে মানসিক দুঃখ বা
কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করছি তার থেকেও অনেক বেশি বা আমার মতই দুঃখ কষ্টে অন্যেরাও
ভুগছে বা ভুগেছে।

মানুষের এটা একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট যে সে তার জীবনে পাওয়া কষ্টগুলো
যদি অন্যের মধ্যেও দেখতে পায় তাহলে তার কষ্ট কম হয় এবং সে স্বান্তনা খুঁজে পায়।

উপরন্তু, সব সময় মনে রাখা দরকার যে, যে সমস্ত ঘটনাগুলো আমাদের জীবনে
দুঃখ হয়ে বা কষ্ট হয়ে আসে সেগুলো আসলে আমাদের জীবনের খোদাই করা একটা প্রাকৃতিক
অংশ।

অভিজ্ঞতায় এটা দেখা গেছে যে সব ধরনের দুঃখ কষ্ট যা ভাগ্যে লিখা থাকে
সেগুলো সবই মানুষ এক সময় ভুলে যায় এবং দুঃখে ভরা দিনগুলির অবশ্যই একসময় অবসান
হয়।

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে একজনের এই জ্ঞান থাকতে হবে যে খুব বড় কোন দুঃখের
সূচনা যখন হয় এবং এরপর যত  দিন যেতে থাকবে
ততই কষ্টের অনুভূতিটা কমে আসবে এবং এভাবে কমতে কমতে একদিন কষ্টটা  একেবারেই ভুলে যাবে।

এ ধরনের মানসিক কৌশল বা বুঝ অবশ্যই কষ্টটাকে কমিয়ে একটা দ্রুত আরাম
দায়ক মানসিক ভারসাম্য এনে দিবে অথবা খুশি এবং শান্তি এনে দিবে।

 

সুত্রঃ “Abu Zayd
al-Balkhi’s Sustenance of the Soul: The Cognitive Behavior Therapy of a Ninth
Century Physician” – Malik Badri, pp. 48-52

Leave a Reply