জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে নিন!
মনোবিজ্ঞানীরা এটা নিয়ে লেখাপড়া করেছেন যে কিভাবে আমাদের জীবনের এই স্বল্প সময়টুকুর মধ্যে অর্থপূর্ন জীবনের উদ্দেশ্যগুলি বিকাশ লাভ করাতে পারি। যে লক্ষ্যগুলি থাকলে আমাদের ভেতরে আমরা কিছু উদ্দ্যেশ্য জাগিয়ে তুলতে পারি, যেমন অন্য একজন মানুষকে বদলে দেওয়া, একটা সংস্থা চালু করা, কোন রোগ নিয়ে গবেষনা করা অথবা কোন শিশুকে দেওয়া ইত্যাদি।
প্রকৃতপক্ষে, ‘জীবনের উদ্দেশ্য’ আমাদেরকে আরো কিছু বড় করতে সক্ষম- যার সাথে জড়িত রয়েছে আমাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য।
অনেকে মনে মনে এটা বিশ্বাস করে যে ‘জীবনের উদ্দেশ্য’ খুঁজে পাওয়া আল্লাহ্র দেওয়া এক প্রতিভা যা আমাদেরকে অন্য মানুষ থেকে আলাদা করে – এটা কিছুটা সত্য কিন্তু, অংশিক মাত্র।
লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য জাগিয়ে তুলতে অন্যের সাথে সর্ম্পক্য থাকা খুব প্রয়োজন। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা জীবনের উদ্দ্যেশ্য খুঁজে পেতে বাধা সৃষ্টি করে।
একবার যদি আমরা আমাদের রাস্তা খুঁজে পাই তাহলে দেখতে পাব, অন্যেরাও ঐ একই রাস্তা দিয়ে হাটছে, তখন একই উদ্দেশ্যের গন্তব্যে পৌঁছা সহজ হয়ে দাঁড়াবে।
এখানে ছয়টি উপায় দেওয়া হলো ,যেই উপায়গুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের একাকিত্ব কাটিয়ে তুলতে পারবো এবং আমাদের জীবনের উদ্দ্যেশ্য বা লক্ষ্য আবিষ্কার করতে পারবো।
১। বেশী বেশী পড়ুন।
পড়া আমাদের এমন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় যাদেরকে আমরা জীবনেও চিনতাম না। এটি এক ধরনের অভিজ্ঞতা যা, গবেষনা মতে, জীবনের উদ্দ্যেশ্য এবং অর্থবহ জ্ঞান-অর্জনের সাথে জড়িত। আপনি যদি আপনার জীবনের উদ্দ্যেশের সংকটে ভুগেন, তাহলে একটা বই এর দোকানে অথবা লাইব্রেরি অথবা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। আপনার সংকট বুঝে একটা বই খুঁজে বের করেন- এবং সেই বইটাই হয়তো আপনার জীবনের সংকটের সমাধান বের করে দিবে।
২। জীবনের আঘাতগুলোকে অন্যের জন্য কাজের মাধ্যমে দূর করুন।
অবশ্যই জীবনের উদ্দ্যেশের সন্ধান শুধুমাত্র বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা নয়- এটি আমাদেরকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হবে। এটি দুঃখ, কষ্ট ও ভুগান্তি থেকে তৈরি হয়- কখন তা আমাদের অথবা অন্যদের।
৩। ভীতি, কৃতজ্ঞতা এবং পরার্থপরতা গড়ে তুলুন ।
এক ধরনের আবেগ এবং আচরন তৈরি করতে হবে যেটা আমাদের স্বাস্থ্য এবং উদ্দেশ্যের অনুভুতিগুলিকে লালন পালন করবে- বিশেষ করে ভীতি, কৃতজ্ঞতা এবং পরার্থপরতা।
৪। আপনার কোন কোন বিষয় অন্যরা প্রশংসা করছে সেগুলোর দিকে গুরত্ব দিন।
অন্যকে ধন্যবাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের উদ্দ্যেশ্য খুঁজে পেতে পারি। আবার অন্যের দেওয়া ধন্যবাদের মধ্য দিয়েও আমরা আমাদের লক্ষ্য খুঁজে পেতে পারি।
৫। একটি সম্প্রদায় খোঁজ করুন অথবা তৈরি করুন।
আপনি যদি আপনার লক্ষ্য খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন, তাহলে আপনার চারপাশের মানুষের দিকে তাকান। তাদের সাথে আপনার কি কি মিল রয়েছে? তারা কি হতে চেষ্টা করছে? এই দুনিয়াতে বসবাস করতে তাদের উপর কি প্রভাব পড়ছে? ঐ প্রভাবগুলি কি পজিটিভ? আপনি কি তাদের সাথে যোগ হতে পারেন ঐ প্রভাবগুলি তৈরিতে? তাদের কি প্রয়োজন? আপনি কি তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তরগুলি যদি আপনাকে অনুপ্রাণিত না করে, তাহলে হতে পারে আপনার নতুন কোন সম্প্রদায় দরকার- এবং নতুন সম্প্রদায়ের সাথে হয়তো আপনি আপনার লক্ষ্য খুঁজে পাবেন।
৬। আপনার গল্প শোনান।
পড়া থেকে আপনি আপনার লক্ষ্য খুঁজে পেতে পারেন এবং লেখা থেকেও। লক্ষ্য অনেক সময় আপনার নিজের জীবনের প্রতি কৌতুহল থেকেও উঠে আসে।
ü আপনি কি ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন?
ü কি ধরনের শক্তি প্রয়োগে আপনি ঐ বাঁধাগুলি কাটিয়ে উঠতে পারবেন?
ü অন্যেরা আপনাকে কিভাবে সাহায্য করবে আপনার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে?
ü কিভাবে আপনার শক্তি সাহায্য অন্যদের জীবনকে আরো ভালো করে তুলতে পারেন।
সুত্রঃ “How to Find Your Purpose in Life” – Jeremy Adam Smith ß মূল লেখাটি পড়তে ক্লিক করুন
