Skip to main content

হজ্ব ও উম্মাহর দায়িত্ব

হজ্বকে কোন সাধারন “তীর্থযাত্রা্র” মত কোন এক বিশেষ স্থানে যাত্রা কিংবা একজন নবী, সাধক ব্যক্তি বা কেবল মহান তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা করা ঠিক না।

হজ্বকে ‘তীর্থযাত্রা’ বলাও  ঠিক না। বরং কুরআনিক নাম “হজ্ব” দ্বারা পরিচিত হতে হবে।

যদিও হজ্ব পালন ব্যক্তির ব্যক্তিগত এবাদত, তবুও এর মাধ্যমে শুধুমাত্র ব্যক্তি উপকৃত হয় না, সামগ্রিকভাবে সমাজ ও মানবতাও উপকৃত হয়। তাই এটি নিজের ইচ্ছামত যেকোনো সময়, যে কোন ভাবে পালনের সুযোগ নাই। এটি একটি সমষ্টিগত, (সার্বিকভাবে  ‘উম্মাহর’) কাজ যা সঠিক সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট  প্রক্রিয়ায়  করা আবশ্যক। উম্মাহর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো হজ্ব হয় না।

হজ্ব হল দূর অতীতের  ইব্রাহীমের (আঃ), হাজেরার (রাঃ), ইসমাঈলের (আঃ) কিছু ঘটনার পুনরাবৃত্তি, নবী মুহাম্মদের (সঃ) মক্কা থেকে হিজরতের এবং আট বছর পরে তাঁর বিজয়ী পুনঃপ্রবেশের অভিজ্ঞতা। এটি হল কাবাঘরের মূর্তিগুলির পুনরায় ধংস করা, ইসলামকে আল-দ্বীন বা জীবন পদ্ধতি হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আল্লাহর সাথে একজন ব্যক্তির সম্পর্কের চূড়ান্ত পথনির্দেশনা। আর তাই হজ্জে অংশগ্রহনকারীর কণ্ঠে ঘোষিত হয় এক অপূর্ব ঘোষণাঃ

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক।’

অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।

সমষ্টিগত ভাবে হজ্ব হল সকল দল, জাতি, রাষ্ট্র এবং সকল আদর্শ, শ্রেণী ও রঙের মানুষের প্রভুর দরবারে একত্রিত হওয়া। এখানে এসে সকলেই তাদের ঐক্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য তাদের সকল মতভেদ ভুলে যায়।

হজ্ব সমগ্র উম্মাহর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দ্যেশে ইসলামের প্রতি নিজেকে পুনরায় উৎসর্গ করার এবং সেই সাথে বিশ্বের অন্যান্য জাতিগুলিকে সুন্দর এক পৃথিবী গড়ার প্রত্যাশায় আল্লাহ্‌র পথে এগিয়ে আসার  আহ্বান জানানোর এক সুর্বন সুযোগ।

সুত্রঃ Islam: The Way of Revival, “Inner Dimensions of Worship – Ismail al-Faruqi, pp. 177, 178

Leave a Reply