Skip to main content

কারবালার  দু;খজনক ঘটনা থেকে শিক্ষা

ইসলামের রয়েছে এক  সুন্দর সাংসারিক স্নেহ আদরের ঐতিহ্য, রয়েছে কষ্টের তীব্রতা এবং রয়েছে আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টার ইতিহাস। মুসলিম ইতিহাসের এসব দিকগুলো আমার কাছে সবচাইতে মূল্যবান হলেও আমি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এই দিকগুলো প্রায়ই অবহেলিত। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের এগুলোর প্রতি পুনরায় মনোযোগ দেওয়া উচিত, আমাদের নিজেদের জন্য এবং সেইসাথে যারা ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় সত্যে আগ্রহী তাদের মনোযোগের জন্য।

ইসলামের ইতিহাসে মূল্যবান যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে সেটা যুদ্ধ নয়, বা রাজনীতি, অথবা গৌরবময় বিজয়, এমনকি বুদ্ধিবৃত্তিক লুণ্ঠন যা আমাদের পূর্বপুরুষরা সংগ্রহ করেছিলেন তা নয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের ইতিহাসের অন্য সব ইতিহাসের মতো রয়েছে আলো এবং ছায়া। আমাদের যা দরকার তা হলো নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনে সংগঠনের চেতনা, ভ্রাতৃত্ববোধ, অদম্য সাহসের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া।

শাহাদাতে অবশ্যই দৈহিক কষ্ট আছে, এবং ঐ সকল দুঃখ-কষ্ট আমাদের সহানুভূতির দাবিদার- আর এই জন্য থাকতে হবে আমাদের সাধ্যানুযায়ী সবচেয়ে প্রিয়, বিশুদ্ধতম, আন্তরিক সহানুভূতি যা। কিন্তু শারীরিক কষ্টের চেয়েও অনেক বড় কিছু কষ্ট  রয়েছে। সেটা হচ্ছে যখন একটি বীর আত্মা বিশ্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়; যখন মহৎ উদ্দেশ্যগুলিকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করা হয় এবং উপহাস করা হয়; যখন সত্যের উপর পরে কাল ছায়া। মনে হচ্ছে সব শেষে একজন শহীদ সম্মতি দিচ্ছেন যে, দুংখ এবং কষ্ট থেকে বাচতে একটু সামান্য অপ্রতিরোধ্য (non-violence)  নীতির উপর মজবুত থাকো; যেন ভিতরে ভিতরে ফিসফিসিয়ে বলছেঃ “সত্যের কখনো মৃত্যু হয় না।” একথা সম্পূর্ণ সত্য- বিমূর্ত সত্যের কখনো মৃত্যু হয় না। এটা সচেতন মানুষের স্বাধীনতা।

কিন্তু পুরো যুদ্ধটাই মানুষের সত্য ও ন্যায়কে ধরে রাখার যুদ্ধ। এবং এ যুদ্ধ কেবলমাত্র মানবিক সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার দ্বারা করা সম্ভব- আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টা এবং সহিষ্ণুতা, বিশ্বাস এবং উদ্দেশ্যের দৃঢ়তা, ধৈর্য এবং সাহসের মাধ্যমে।

যেখানে একজন সাধারণ মানুষ ত্যাগ করবে না বা নতজানু হবে, চরম পরিণতি অবজ্ঞা করে সাধারণ উদ্দেশ্যের কাছে সত্যের বলিদান দিবে, সেখানে একজন শহীদ সত্যের সাক্ষ্য বহন করে। হোসাইন (রাঃ) এর সাথে ঠিক এমনটাই হয়েছিলো। কারন সবাইকেই তার শাহাদাতের গল্প ছুঁয়ে গিয়েছিলো, এবং এটি দামেস্কের রাজনীতিতে মৃত্যু আঘাত বয়ে এনেছিলো এবং সকলে  হোসাইন (রাঃ) এর পক্ষে দাড়িয়েছিলো। তাই মুহাররম এখনও ইসলামের বিভিন্ন মাযহাবের চিন্তাধারাকে একত্রিত করার এবং অমুসলিমদের কাছে একটি শক্তিশালী আবেদন করার ক্ষমতা রাখে। এটি শাহাদাতের সর্বোচ্চ তাৎপর্য।

অতীতের সব মানব ইতিহাস দেখলে দেখা যায় যে মানব আত্মা বিভিন্ন দিক থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছে, অনেক উৎস থেকে শক্তি ও প্রেরণা লাভ করেছে।  আমাদের দেহ ও আধ্যাত্মিক শক্তি অনেক সংগ্রাম এবং পরাজয়ের পরে বিকাশ বা বিবর্তিত হয়েছে। আমরা আমাদের অনেক বুদ্ধীজিবিদের শহীদদের কাতারে পেয়েছি, এবং আমাদের মহান অভিযাত্রীরা প্রায়শই শহীদদের প্রেরণ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সকলের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

তবে সর্বোচ্চ সম্মানটি এখনও আধ্যাত্মিক জগতের সেইসব মহান অনুসন্ধানকারীদের যারা ভয়ানক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও মন্দের কাছে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করছেন। তারা তাদের পবিত্রতার সাথে কলংক জড়িয়ে নেওয়ার চাইতে নিজের জীবনের বিনিময়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ইসলামের প্রথম প্রতিরোধ যখন ইমাম হোসাইন (রাঃ) দ্বারা গড়ে উঠলো তখন তিনি শহর থেকে শহর চড়িয়ে বেরিয়েছেন, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা পালিয়ে বেরিয়েছেন,  কিন্ত তারপরও মন্দের সাথে কোন আপোস করেননি। তারপর তাকে একটি প্রস্তাব করা হলো কিন্ত সেটা ছিলো খুবই বিপদজনক, সেটা ছিলো আল্লাহর ঘর থেকে দূরে রাখার একটি ভয়ানক পরিকল্পনা আর তা নাহলে নিজের সহযোদ্ধা বন্ধুবান্ধব সাথীদের বাদ দিয়ে একটি সহজ আরামদায়ক একাকি জীবন যাপন করবার প্রস্তাব। তিনি দায়িত্ব এবং সম্মানের সাথে বিপদের পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং তা থেকে কখনও বিচ্যুত হননি, স্বাধীনভাবে এবং সাহসিকতার সাথে তার জীবন বিসর্জন দেন।

ইমাম হোসাইনের (রাঃ) গল্প আমাদের আবেগকে পবিত্র করে। আমরা আমাদের মধ্যে সাহস এবং দৃঢ়তা বাড়িয়ে তার স্মৃতিকে সম্মানের সাথে স্মরণ করতে পারি।

সুত্রঃ “Imam Husain And His Martyrdom” – Abdullah Yusuf / ভাবানুবাদঃ ফাতেমা বিনতে আযাদ

Leave a Reply